ড. মুহা. নজীবুর রহমান : মানব জাতিকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে, সেই ‘ইবাদত’ প্রতিষ্ঠা ও তা বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা-সাধনার কারণে, একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলো, ইসলামী পরিভাষায় তাকে ‘শহীদ’ নামে আখ্যায়িত করা হয়। আল্লাহর দেয়া দ্বীন (জীবনব্যবস্থা)-কে কার্যকরী করার সংগ্রামে যিনি শুধুমাত্র মহান আল্লাহকেই রাযী-খুশী করার নিয়তে নিজের জীবনকে কুরবানী করেন তিনিই ‘শহীদ’। ‘শহীদ’ আরবি শব্দ। এটি ‘শাহাদত’ শব্দ থেকে গঠিত হয়েছে। ‘শাহাদত’ অর্থ হলো, সাক্ষ্য, সনদ, সার্টিফিকেট, প্রত্যয়নপত্র ইত্যাদি। ‘শহীদের’ ভাবার্থ হলো, ‘শহীদ ব্যক্তি মহান আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের সফলতায় তার জীবন কুরবানীর মাধ্যমে তার ঈমানের দাবি পূরণের সত্যতার সাক্ষ্য, সনদ, সার্টিফিকেট বা প্রত্যয়ন প্রদান করলো।’ আরবি ডিকশনারি ‘মু’জাম আল-অসীত’-এর লেখক ‘শহীদ’ শব্দের অর্থ করে লিখেছেন, (ইস্তাশ্হাদা: তায়ার্’রাদা আয়্যুক্তালা ফি-ছাবিলিল্লাহ্) অর্থাৎ: “তিনি আল্লাহর পথে নিহত হওয়ার জন্য নিজকে পেশ করলেন” (ইবরাহীম মাযকুর, আল মু’জাম আল-অসীত ১/৪৯৭)।
“হানাফী মাযহাবে ‘শহীদ’ বলতে বুঝানো হয়েছে: (আশ্শহীদু হুয়া মান্ কুতিলা যুলমান, ছাওয়াউ কুতিলা ফি-হারবিন, আও কতালাহু বাগীউন, আও হারবিউন, আও কাত্তিউ তরিকিন, আও লিচ্ছুন) অর্থাৎ: “শহীদ ঐ ব্যক্তি (যে মুসলমান) অত্যাচারিত বা নির্যাতিত অবস্থায় নিহত হয়েছে। চাই তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হন অথবা কোনো বিদ্রোহী কিংবা কোনো শত্রু তাকে হত্যা করুক অথবা কোনো চোর বা ডাকাত তাকে নিহত করুক” । (আব্দুর রহমান আল-জাযাইরী, কিতাবুল ফিক্হ ‘আলাল মাযাহিবিল আরবা’আ, ১/৫২৭-৫২৯ )।
“শাফেয়ী মাযহাবে ‘শহীদ’ হলো: (শহীদুন লিদ্দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্: অহুয়া মান ক-তালাল কুফ্ফারি লি ই’লাই কালিমাতিল্লাহ্ িতা’য়ালা মিন গইরি রীয়াইন, অলা গুলুলিন মিনাল গনীমাহ্ )। অর্থাৎ: “দুনিয়া ও অখিরাতের শহীদ হলেন: যিনি গনীমতের মাল গোপনে আত্মসাৎ অথবা মানুষের বাহ্বা কুড়ানোর উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্যই আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে কাফিরদের সাথে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন”। (আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ, প্রাগুক্ত)।
হাম্বলী মাযহাবে ‘শহীদ’ বলা হয়: (আশ্শহীদু হুয়া মান মা-তা বি-ছবাবিন কিতালি কুফ্ফারিন হীনা কিয়ামিল কিতাল) অর্থাৎ: “শহীদ তিনি, যিনি কাফিরদের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করার সময় নিহত হয়েছেন”। (আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ, প্রাগুক্ত)।
মালিকি মাযহাবে ‘শহীদ’ অর্থ: (আশ্শহীদু হুয়া মান কতালাহু কাফিরুন হারবিয়্যুন আও কুতিলা ফি ম’রাকাতিন বাইনাল মুসলিমিন অল কুফ্ফার ) অর্থাৎ: “শহীদ ঐ ব্যক্তি, যাকে কোনো কাফির যোদ্ধা হত্যা করেছে অথবা মুসলমান ও কাফিরদের মধ্যে লড়াইয়ে মারা গিয়েছে”। (আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ , প্রাগুক্ত)।
শহীদের মর্যাদা:
শহীদগণ শাহাদাতের মাধ্যমে ঈমানের দাবি পূরণ করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন, এ মর্মে আল্লাহ তায়া’লা বলেন: “মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের মধ্যে কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন করেনি, কারণ আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে পুরস্কৃত করেন তাদের সত্যবাদিতার জন্য এবং তাঁর ইচ্ছা হলে মুনাফিকদেরকে শাস্তি দেন অথবা ক্ষমা করেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা-৩৩ আল-আহযাব:২৩-২৪)। মহান আল্লাহর বিধান কার্যকরী করার চেষ্টা সাধনার মাধ্যমেই মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রেযামন্দী অর্জন করতে পারেন, যার জন্যই মহান আল্লাহ মানুষকে সষ্টি করেছেন। এমনি চেষ্টা-সাধনার শেষ পর্যায়ে প্রয়োজনে বান্দাহ আল্লাহর পথে নিজ জীবন উৎসর্গ করে হন শহীদ। আর আল্লাহ তায়া’লা এমনি শাহাদত বরণকারী শহীদের উপর অত্যন্ত খুশি হন। যার কারণে শহীদের মর্যাদা অসীম। এখানে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো।
(১) শহীদগণ মৃত নন, বরং তাঁরা জীবিত, আল্লাহর নিকট থেকে রিযিক প্রাপ্ত :
মহান আল্লাহ্ বলেন: (অলা তাহ্ছাবান্নাল্লাযীনা কুতিলু ফী ছাবীলিল্লাহি আমওয়াতান, বাল আহ্ইয়াউ ইনদা রব্বিহীম, ইউরযাকুন) অর্থাৎ: “যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে তোমরা তাদেরকে মৃত মনে কর না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের নিকট হতে তারা রিযিক প্রাপ্ত”। (সূরা-৩ আল-ইমরান:১৬৯)। অন্যত্র আল্লাহ তা’য়ালা বলেন: (অলা তাকুলু লিমাইউক্তালু ফী ছাবীলিল্লাহী আমওয়াত, বাল আহ্ইয়াউ অলাকিল্লা তাশউরুন) অর্থাৎ: “আল্লাহ্র পথে যারা শহীদ হয়, তাদেরকে তোমরা মৃত বল না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পার না” (সূরা-২ আল-বাকারা:১৫৪)। দুনিয়ার জীবিত মানুষের চর্মচক্ষে শহীদদেরকে প্রাণহীন মৃত লাশ দেখলেও আসলে মহান আল্লাহ্র নিকট তারা মৃত নন, তাদেরকে মৃত মনে করতে ও মৃত বলতে নিষেধ করা হয়েছে। শহীদদের মৃত্যুকে অন্যদের মৃত্যুর সমপর্যায়ভুক্ত মনে করতে নিষেধ করা হয়েছে। কেননা শহীদদেরকে অন্যান্য মৃতের তুলনায় একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মর্যাদা দান করা হয়েছে। অনেক সময় শহীদদের রক্ত-গোস্তের দেহ পর্যন্ত মাটিতে বিনষ্ট হয় না। জীবিত মানুষের দেহের মতোই অবিকৃত থাকতে দেখা যায়। এ কারণেই শহীদগণকে জীবিত বলা হয়েছে। তবে সাধারণ নিয়মে তাদেরকেও মৃতই ধরা হয় এবং তাদের পরিত্যক্ত সম্পদ নিজ নিজ ওয়ারিসগণের মধ্যে বণ্টিত হয়, তাদের বিধবাগণ ইদ্দত পালনের পরে অন্যের সাথে পুনর্বিবাহ করতে পারে। (মুফতী মেহম্মদ শফী, তাফসীর মা’আরেফুল কুরআন-১/৩৯৬)।
শহীদগণ মহান আল্লাহ্র পথে শাহাদত প্রাপ্তির কারণে তারা আল্লাহর নিকট জীবিত লোকদের মতোই জান্নাতী নে‘য়ামত ও মহাশান্তি ভোগ করে থাকে, কিন্তু জীবিত মানুষ তা বুঝতে পারে না।
(২) শহীদগণ আল্লাহর পুরস্কার পেয়ে হয় আনন্দিত:
মহান আল্লাহর ঘোষণা হলো:
(ফারিহীনা বিমা আতাহুমুল্লাহু মিন ফাদলিহি অ-ইয়াছতাবশিরুনা বিল্লাযিনা লাম ইয়ালহাকু বিহিম মিন খলফিহিম আল্লা- খওফুন ‘আলাইহিম অলাহুম ইয়াহযানুন। ইয়াছতাবশিরুনা বিনি‘য়মাতিমি¥নাল্লাহি অফাদলিন, অআন্নাল্লাহা লাইউদিউ আজ্রল মু’মিনীন) অর্থাৎ: “আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা (শহীদগণ) আনন্দিত এবং তাদের পিছনে যারা এখনও তাদের সাথে মিলিত হয়নি, তাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে এজন্য যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না, আল্লাহর নিয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে এবং তা এ কারণে যে, আল্লাহ্ মু‘মিনদের শ্রমফল বিনষ্ট করেন না” (সূরা-৩ আল-ইমরান:১৭০-১৭১)। মু‘মিনগণ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য নিজ নিজ জীবন বিসর্জন দিয়ে শহীদ হওয়ার কারণে আল্লাহর নিকট থেকে এমন মহান পুরস্কার ও নেয়ামত পাবেন যে, সীমাহীন আনন্দে তারা আত্মহারা হয়ে যাবেন, দুনিয়ায় যারা আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছেন, তারাও শীগ্রই শহীদ হয়ে তাদের সাথে মিলিত হলে তারাও অনুরূপ পুরস্কার ও নিয়ামতের অধিকারী হওয়ার সুসংবাদেও শহীদগণ আনন্দিত, যার কারণে তারা দুনিয়ার জীবনের সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলে যাবেন।
(৩) শহীদগণ শাহাদাতের অকল্পনীয় মর্যাদা ও সম্মানজনক পুরস্কার দেখে পুনরায় শহীদ হওয়ার জন্য দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করবে:
“হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: একমাত্র শহীদ ছাড়া এমন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর পরে দুনিয়ায় ফিরে আসতে আনন্দ পাবে না, সে আল্লাহর নিকট এমন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছে যা দুনিয়া ও তার সমস্ত সম্পদের সমান। কেননা সে বাস্তবে শাহাদতের মর্যাদা দেখতে পাবে, সুতরাং সে পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে এসে আর একবার আল্লাহর পথে প্রাণ দিতে আনন্দ অনুভব করবে” (সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল জিহাদ-১/৩৯২)।
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:
“হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে বলতে শুনেছি: সেই সত্তার শপথ যাঁর মুঠির মধ্যে আমার প্রাণ , আমার নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় হচ্ছে, আমি আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যাই, অতপর জীবন লাভ করি এবং পুনরায় শহীদ হই তারপর আবার জীবন লাভ করি এবং পুনরায় শহীদ হই, তারপর আবার জীবন লাভ করি এবং পুনরায় শহীদ হই” (সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল জিহাদ-১/৩৯২)।
(৪) শহীদের লাশের উপর ফিরেশতারা ছায়া দান করেন :
“হযরত জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উহুদের দিন যুদ্ধ শেষে আমার আব্বার লাশ রাসূলুল্লাহর সামনে এনে রাখা হলো, তার লাশ বিকৃত (নাক কাটা ও চক্ষু উপড়ানো) করা হয়েছিলো, আমি তার চেহারা উন্মুক্ত করে দেখতে গেলে লোকেরা আমাকে নিষেধ করলো। ইতোমধ্যে কোনো ক্রন্দনকারিনীর ক্রন্দন-ধ্বনী ভেসে আসলো। বলা হলো, অমরের কন্যা বা ভগ্নি ক্রন্দন করছে, রসূলুল্লাহ (সা) বললেন: ক্রন্দন করছো কেন? অথবা ক্রন্দন করো না, এখনও ফিরেশতারা তাকে ডানা দ্বারা ছায়াদান করছে” (সহীহ আল-বুখারী, কিতাবুল জিহাদ-১/৩৯৫)।
(৫) মানুষের পাওনা ঋণ ছাড়া শহীদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়:
“হযরত আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: শহীদের ঋণ ছাড়া তার সকল গুনাহ শাহাদত প্রাপ্তির কারণে ক্ষমা হয়ে যায়” (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ইমারত-২/১৩৫)। অর্থাৎ: আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তি নিজের জীবন উৎসর্গ করার কারণে মহান আল্লাহর অধিকারের সাথে জড়িত সকল গুনাহ তিনি ক্ষমা করে দেন। কিন্তু ঋণ যেহেতু মানুষের অধিকার, তা পাওনাদার থেকে ক্ষমা না পাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্ও তা ক্ষমা করেন না।
(৬) শহীদগণের মৃত্যুকষ্ট সামান্য চিমটি কাটার চেয়ে বেশি হয় না:
“হযরত আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: শহীদ ব্যক্তির নিহত হওয়ার কষ্ট হলো, তোমাদের মধ্যে কেউ সামান্য একটু চিমটি কাটার মতো স্পর্শ অনুভব করে মাত্র” (জামে’ আততিরমিযী, আবওয়াবুল ফাদায়িলিল জিহাদ ১/২৯৬)। অর্থাৎ: মানুষ নিহত হওয়ার সময় সাধারণত মারণাস্ত্রের আঘাতে যে ধরনের অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে তা ভয়াবহ কষ্টদায়ক হয়ে থাকে, কিন্তু আল্লাহর পথে শহীদ ব্যক্তি বোমার আঘাতে, গুলি লেগে, পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে অথবা অন্য কোনোভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের সময় সামান্য একটু চিমটি কাটার চেয়ে বেশি কষ্ট অনুভব করে না। এটা শহীদের জন্য মহান আল্লাহ্র বিশেষ মর্যাদা ও রহমত।
(৭) শহীদের জন্য মহান আল্লাহর নিকট রয়েছে আরো বিশেষ কিছু মর্যাদা:
“হযরত মিকদাম ইবনে মা’দির্কাব (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন: আল্লাহর নিকট শহীদের ছয়টি (বিশেষ) মর্যাদা রয়েছে: ক. শহীদের শরীর থেকে প্রবাহিত রক্তের প্রথম ফোঁটা মাটিতে পড়ার সাথে সাথে তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করা হয়। খ. জান্নাতে শহীদের আবাসস্থান দেখানো হয়। গ. শহীদের কবর আযাব হয় না। ঘ. শহীদ ব্যক্তি ভয়ানক-আতঙ্কজনক কিয়ামতের বিভীষিকা থেকে নিরাপদ থাকে। ঙ. শহীদের মাথায় মহাসম্মানিত টুপি পরানো হয়, যার একটু ইয়াকুত পাথর দুনিয়া ও দুনিয়ার সকল সম্পদ থেকে উত্তম, শহীদের সাথে বাহাত্তর জন মহাপবিত্রতমা জান্নাতী হুরের বিয়ে দেয়া হয়। চ. শহীদকে তাঁর নিকটাত্মীয়দের থেকে সত্তরজন লোকের জন্য সুপারিশ করার ক্ষমতা দেয়া হয়” (জামে’ আততিরমিযী, আবওয়াবুল ফাদায়িলিল জিহাদ ১/২৯৫)। ঈমানের দাবি পূরণের অঙ্গীকার আদায়ে মু’মিনদেরকে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হয়, কখনো কখনো বিপদের পাহাড় তাদের মাথায় ভেঙে পড়ে, তাদেরকে চরম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, এমনকি প্রয়োজনে তাদেরকে নিজ নিজ জীবন কুরবানী করতে হয়। মহান আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূরণের প্রমাণ পেশ করতে হয়। এমনি শাহাদত বরণ করেই তারা লাভ করেন আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ। এ ধরনের ত্যাগ স্বীকার মেনে নেয়া ও এ পথে ধৈর্য ধারণ করা যে কত জরুরি, মহান আল্লাহর ঘোষণায় তা এভাবেই স্পষ্ট হয়েছে:
“তোমরা কি একথা মনে করে নিয়েছ যে, তোমরা জান্নাতে এমনিই প্রবেশ করে যাবে? অথচ তোমাদের পূর্বে যারা ঈমান এনেছিলো তারা যে অবস্থার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল এখনো তোমরা সে অবস্থার সম্মুখীন হওনি। তারা কাঠিন্য ও বিপদের মুখোমুখি হয়েছিল এবং তাদেরকে নাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল, এমনকি রাসূল ও তাঁর সংগী-সাথিরা চিৎকার করে উঠেছিল আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে! Ñশোনো, আল্লাহর সাহায্য নিকটেই আছে” (সূরা-২ আল-বাকারাহ:২১৪)।
অন্যত্র মহান আল্লাহর ঘোষণা এসেছে এভাবে:
“লোকেরা কি একথা মনে করে নিয়েছে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ একথা বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে আর পরীক্ষা করা হবে না? অথচ এদের আগে যারা অতিক্রান্ত হয়েছে তাদের সবাইকে আমি পরীক্ষা করেছি। আল্লাহকে অবশ্যই দেখতে হবে (ঈমানের দাবিতে) কে সত্যবাদী এবং কে মিথ্যাবাদী” (সূরা-২৯ আলআনকাবুত:২-৩)।
সুতরাং আল্লাহভীরু মু’মিনগণ মাত্রই আল্লাহর পথে চলতে গিয়ে তাদের উপর আপতিত বিপদ আপদের পাহাড় দেখে তাদের ঈমান নড়ে যাবার পরিবর্তে আরো বেশি বেড়ে যায় এবং আল্লাহর হুকুম পালন করা থেকে দূরে পালিয়ে যাবার পরিবর্তে তারা আরো বেশি প্রত্যয় ও নিশ্চিন্ততা সহকারে নিজেদের সব কিছু মহান আল্লাহর হাতে সোপর্দ করে তাঁরই নির্দেশিত পথে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এগিয়ে যায় দুর্বার গতিতে। আল্লাহ তাঁর মনোনিত বান্দাহদেরকে তাঁরই পথে দুর্বার বেগে এগিয়ে যাবার তৌফিক দিন। আমীন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন